তফসিলের পর সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত: ইসি সচিব

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, ভোটের মাঠে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত তফসিল ঘোষণার পর নেওয়া হবে। সেনা মোতায়েনের সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সভায় কমিশন অবহিত করেছে, তফসিল ঘোষণার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

সোমবার কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি জানান, ভোটার তালিকায় কোনো ধরনের ভুলভ্রান্তি থাকলে তা ৩০ অক্টোবরের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে তফসিল ঘোষণার আগে এগুলো সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা যায়।

হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১০টির বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। মামলার গতিপ্রকৃতি জানানোর জন্য আইন শাখাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্র বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের ২৫ দিন আগে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। কমিশন সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে যে ভোটকেন্দ্র আছে তার অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কেন্দ্র চিহ্নিত করে রাখা। যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনোক্রমে কেন্দ্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেসব কেন্দ্র ব্যবহার করার সুযোগ থাকে।

তিনি জানান, নির্বাচনে তারা দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানাবেন। সার্কভুক্ত নির্বাচন কমিশনদের সংগঠন ফেমবোসা কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। কমিশন আগামী সপ্তাহে বৈঠক করে অনুমোদন দেবেন।

নির্বাচন উপলক্ষে শূন্যপদে পদায়ন দেওয়ার কথা জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী অফিসার পদায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পদ যাতে খালি না থাকে তার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারণে মাঠ প্রশাসনে বিশেষ করে উপজেলায় নির্বাচনী কর্মকর্তার পদ কিছু খালি থাকবে- সেসব ক্ষেত্রে অন্যান্য দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। কমিশন অতিরিক্ত ১০ শতাংশ রেখে এই প্যানেল তৈরি করার জন্য বলেছেন। আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, আট বিভাগে আটটি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য রাঙামাটিতে বিশেষ একটি সভা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের খরচ বাবদ ৭০০ কোটি টাকা বাজেট অনুমোদন করেছে ইসি। সভায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনের খরচের প্রসঙ্গ উঠলে আলোচনা শেষে কমিশন এতে অনুমোদন দেয়।

ইসি সচিব জানান, নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি ইসির কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের ব্যালট বাপ ও ব্যালট পেপারের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি ইসির রয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য আরপিও সংশোধন করে তা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকার অনুমোদন দিলে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টিও কমিশন ভেবে দেখবে।

অনুসন্ধান

পুরাতন খবর

এই বিষয়ের আরো খবর

© All rights reserved © 2017 ThemesBazar.Com

Desing & Developed BY লিমন কবির