বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে ইসিকে নির্দেশ

বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) করা জনৈক মোজাম্মেল হোসেনের আবেদন এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই সময়ের মধ্যে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতেও ইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিতে বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমী।

পরে মাসুদ রুমী সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি কর্মী রাজধানীর কাফরুল এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন মঙ্গলবার ইসিতে একটি আবেদন দাখিল করেন। এতে বলা হয়েছে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে।

ওই আবেদনে তিনি বলেছেন, এই গঠনতন্ত্র গ্রহণ করা হলে বিএনপিতে দুনীর্তিবাজ, অযোগ্য ব্যক্তিরা নেতা হওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া সংশোধনীটি সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের দলীয় কমিটিতে না রাখার যে বিধান বিএনপির গঠনতন্ত্রে ছিল, সংশোধনীতে তা বাদ দেওয়া কেন বেআইনি হবে না এবং সংবিধানের ৬৬ (২) ঘ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি হবে না-রুলে তা জানতে চেয়েছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালত রিটকারির বক্তব্যে সন্তষ্ট হয়ে রুল ও অন্তবর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টের অন্তবর্তীকালীন আদেশের ফলে গঠনতন্ত্রের ওই সংশোধনী আপাতত কার্যকর থাকছে না। তাতে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলীয় নেতৃত্বে রাখা এবং নির্বাচনে তাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগও আপাতত আটকে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে দলটি গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা সংশোধন করে। এতে সাত ধারায় উল্লেখিত রাষ্ট্র কর্তৃক দণ্ডিত, দেউলিয়া, উম্মাদ বলে প্রমাণিত, সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে কিংবা দলের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে-এই কথাগুলো উঠিয়ে দিয়ে ‘প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দলের একজন চেয়ারম্যান থাকবেন যুক্ত করা হয়েছে। ৩০ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তি দলের চেয়ারম্যান হতে পারবেন না’-এই অংশটিও যোগ করা হয়। চলতি বছর ২৮ জানুয়ারি সংশোধিত গঠনতন্ত্র ইসিতে জমা দেয় বিএনপি।

এই সংশোধনী গ্রহণ না করতেই মোজাম্মেল মঙ্গলবার ইসিতে আবেদন জানান। একই সঙ্গে ওইদিনই হাইকোর্টে রিট করে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত আবেদনটি নিষ্পত্তির নির্দেশনা চান।

অনুসন্ধান

পুরাতন খবর

এই বিষয়ের আরো খবর

© All rights reserved © 2017 ThemesBazar.Com

Desing & Developed BY লিমন কবির