মোংলা বন্দর ব্যবহারে রফতানিকারকদের আগ্রহ কম

দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর এখনও আমদানিনির্ভর। পণ্য আমদানিতেই বছরজুড়ে সচল থাকে এ বন্দর। কিন্তু কনটেইনার সংকট ও চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় কনটেইনার ভাড়া বেশি হওয়ায় এ বন্দর ব্যবহারে রফতানিকারকদের আগ্রহ কম। মূলত নাব্য সংকটের কারণে কনটেইনারবাহী বিদেশি জাহাজ কম আসে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলে এলেও নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেই।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ৫৭ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়। আর রফতানি হয় মাত্র ৮৭ হাজার টন পণ্য। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ৭৪ লাখ টন ও রফতানি হয় মাত্র ৮৬ হাজার টন পণ্য। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে আমদানি হয় ৯৬ লাখ টন এবং রফতানি হয় মাত্র দেড় লাখ টন পণ্য।

মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা প্রায় অর্ধেকই সরকারি পণ্য- যেমন সার, গম, খাদ্যশস্য প্রভৃতি। সরকারিভাবে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি না হলে বা কম থাকলে মোংলা বন্দরে কার্যত তেমন কর্মব্যস্ততা থাকত না। এ বন্দর দিয়ে প্রায় ১০ ধরনের পণ্য আমদানি হলেও রফতানি হয় মাত্র তিন ধরনের পণ্য। আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সার, গম, চাল, বিভিন্ন খাদ্যশস্য, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকার, কয়লা, এলপি গ্যাস, রিকন্ডিশন গাড়ি প্রভৃতি। রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাট ও পাটজাত দ্রব্য, হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ এবং সিরামিক।

হিমায়িত চিংড়ি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান খুলনার মডার্ন সি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল হক সমকালকে বলেন, মোংলা বন্দরে কনটেইনারবাহী বিদেশি জাহাজ আসে চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় অনেক কম। সে কারণে এ বন্দরে সময়মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যক কনটেইনার মেলে না। এর ফলে বাধ্য হয়ে অনেক সময় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হিমায়িত চিংড়ি রফতানি করতে হয়।

পাট রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান আকুঞ্জি ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম হারুনুর রশীদ বলেন, কনটেইনার সংকট তো রয়েছেই। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় এ বন্দরে কনটেইনারের ভাড়াও অনেক ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ। ফলে অধিকাংশ রফতানিকারকই বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে যান। তিনি জানান, পদ্মার এপারে যত বেসরকারি জুট মিল ও টোয়াইন মিল আছে তাদের বেশিরভাগ পণ্য চট্টগ্রাম দিয়ে বিদেশে রফতানি করা হয়।

কনটেইনার সংকটের কারণ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে নাব্য সংকট রয়েছে। এর ফলে সাড়ে ৮ মিটারের বেশি ড্রাফটের কনটেইনারবাহী বড় জাহাজ এ বন্দরে ভিড়তে পারে না। মোংলা বন্দরে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিদেশি জাহাজ আসে ৭৮৪টি। এর মধ্যে কনটেইনারবাহী জাহাজ ছিল মাত্র ৪৪টি।

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের তুলনায় মোংলার দূরত্ব বেশি। সে কারণে ঢাকা ও আশপাশের জেলার ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলো চট্টগ্রাম বন্দরমুখী হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোংলা বন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে রফতানির চেয়ে আমদানির পরিমাণই বেশি। বেশিরভাগ পণ্যই রফতানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। তবে আমদানিনির্ভরতা বেশি হলেও বেসরকারি আমদানিকারকদের মধ্যে মোংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ কম। এর প্রধান দুটি কারণ- বন্দরে অবকাঠামোগত সমস্যা ও রাজধানীর সঙ্গে দূরত্ব।

এ ব্যাপারে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিকল্পনা প্রধান শেখ মাসুদ উল্লাহ সমকালকে বলেন, বন্দরের পশুর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিংয়ের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এ বন্দরে সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের বিদেশি জাহাজ আসতে পারবে। এ ছাড়া কনটেইনার ইয়ার্ড ও টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প চলছে। এসব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে কনটেইনার সংকট থাকবে না। একই সঙ্গে ভাড়াও কমে আসবে। বেসরকারি খাতের আমদানি-রফতানিকারকদের এই বন্দরের প্রতি আগ্রহী করতে বিভিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুসন্ধান

পুরাতন খবর

এই বিষয়ের আরো খবর

© All rights reserved © 2017 ThemesBazar.Com

Desing & Developed BY লিমন কবির