৯ ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব শিক্ষকের!

চট্টগ্রামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ক্লাসের নয় ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এতে রাজি না হওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরীক্ষার হলে ওই ছাত্রীদের খাতা দেড় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। শিক্ষকের এমন আচরণে হুমকির মুখে পড়েছে ওই ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন। উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তাদের অভিভাবকরাও।

নগরের কৃষ্ণকুমারী সিটি করপোরেশন স্কুলের শিক্ষক প্রশান্ত বড়ূয়ার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ওই ছাত্রীদের পরিবার।

অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক প্রশান্ত বড়ূয়া স্কুলের দশম শ্রেণির ৯ ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে তিনি ছাত্রীদের মোবাইল নম্বর চান এবং ফেসবুকে তাকে সংযুক্ত করতে চাপ দেন। পরে বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানানো হলে প্রশান্ত বড়ূয়াকে দশম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। পরে ওই শিক্ষক ছাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করতে থাকেন। প্রায় সময়ই পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে গণিত বিষয়ের পরীক্ষার দিন পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছিলেন শিক্ষক প্রশান্ত বড়ূয়া। এ সময় তিনি পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে ওই ছাত্রীদের খাতা কেড়ে নেন। সময় শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে তিনি খাতা ফিরিয়ে দেন। এতে আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায় ওই নয় ছাত্রীর অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ছাত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

এদিকে, চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ ওই নয় ছাত্রী যাতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহমেদ হোসেন বলেন, ছাত্রীদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ওই শিক্ষককে এরই মধ্যে শোকজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, বোর্ড কর্তৃপক্ষ যদি ওই নয় ছাত্রীর এসএসসির পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেয়, তাহলে তারা এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম জানান, স্কুলটি সিটি করপোরেশন নিয়ন্ত্রণাধীন। তবে ওই ছাত্রীদের যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে বিষয়টি তদন্ত করে বোর্ড তাদের পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

অনুসন্ধান

পুরাতন খবর

এই বিষয়ের আরো খবর

© All rights reserved © 2017 ThemesBazar.Com

Desing & Developed BY লিমন কবির