‘আশঙ্কা’র প্রতিফলন দেখছে বিএনপি

নানা অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাছাইয়ে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলে ‘আশঙ্কা’র প্রতিফলন দেখছে বিএনপি জোট। এ ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ জোটটি। তবে আগে থেকেই এমন আশঙ্কা আঁচ করতে পারায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতিও নিয়েছিল তারা। তাই এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ হলেও হতাশ হচ্ছে না জোটটি। বরং আইনি মোকাবিলায় প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টাসহ নানা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও দেখছেন নেতারা। বিএনপি জোটের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, নানা অভিযোগ, শঙ্কা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে বিএনপি জোট। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুরু থেকেই নানা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে তারা। এরই অংশ হিসেবে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও আগে থেকেই বেশ সতর্কতা অবলম্বন করে বিএনপি জোট। বিভিন্ন অজুহাতে মনোনয়ন বাতিলের আশঙ্কা থেকে সব আসনেই একাধিক প্রার্থী রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের বাছাইয়ের পর ৩০০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেয় বিএনপি। তাই রোববার বিএনপি জোটের যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা আশঙ্কারই বাস্তবায়ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার নতুন কৌশল গ্রহণ করছেন তারা।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছিল, ছোটখাটো বিষয়ে কারও মনোনয়ন বাতিল করা হবে না। কিন্তু রোববার খুব ছোটখাটো অভিযোগে অনেকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। কেউ ক্ষমতার বলে পার পেয়ে যাচ্ছেন, আর কাউকে নানা অজুহাতে আটকানো হচ্ছে— এটা অদ্ভুত একটা দেশ। শেষ পর্যন্ত সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠে থাকতে দেবে কি না, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেন দলটির শীর্ষ এ নেতা। তিনি বলেন, যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তারা আপিল করবেন। আশা করি, ইসি তাদের মনোনয়ন বহাল রাখবেন। তবে এরপরও যদি কোনো আসনে আমাদের দলের প্রার্থী না থাকে, সেক্ষেত্রে সমমনা কাউকে সমর্থন দেওয়া হতে পারে বলে আভাস দেন তিনি।

ইসি সূত্র মতে, ঋণখেলাপি, আদালতে দণ্ড হওয়া, তথ্য প্রদানে

ঘাটতিসহ নানা কারণে স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন। ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ৮০ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিনটি আসনেই মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিকল্প প্রার্থীদেরও বাতিল করায় ছয়টি আসনে বর্তমানে বিএনপি জোটের কোনো প্রার্থীই নেই।

মনোনয়ন বাদ পড়াদের তালিকায় আছেন— ঐক্যফ্রন্ট নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, এম মোরশেদ খান, আমানউল্লাহ আমান, আসলাম চৌধুরী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আফরোজা আব্বাস, সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী গোলাম মাওলা রনি, গণফোরামে যোগদানকারী রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

বিভিন্ন অজুহাতে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক এমপির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। বর্তমান ইসি সরকারেরই প্রলম্বিত ছায়া। উনাদের (আওয়ামী লীগ) দন্ডপ্রাপ্ত যারা, সবাই টিকে গেলেন। স্বাক্ষর করেননি, তথ্য দেননি, বেসামরিক বিমান পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য দাখিল না করলেও তারটা টিকে গেল। এখানেই বুঝতে পারেন— কার পরামর্শে ইসি চলছে। যেসব আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকল না, সেখানে কী হবে— জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ছয়টি আসনে তো বিএনপির কোনো প্রার্থীই নেই। এতে নির্বাচন কমিশন সরকারের কথায় যে কারিগরি করছে, ইঞ্জিনিয়ারিং করছে, নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া, সেটায় তারা (সরকার) যে ক্রীড়াশীল— এটাতে তা স্পষ্ট। সেখানে কী করব, সেটা আপিল প্রক্রিয়া শেষ হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

সূত্র মতে, মনোনয়ন বাতিলের আশঙ্কার কথা আগে থেকেই প্রকাশ করেছিলেন বিএনপি জোটের নেতারা। এজন্য বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিটি আসনে দুই থেকে তিনজন প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। জোটের শরিকরাও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেয়। একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রদান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, কোনো আসন যেন শূন্য না থাকে, সেজন্যই একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। ইসির যাচাই-বাছাইয়ের পর একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। বাকিরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন। সে অনুযায়ী ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টনসহ বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অনুসন্ধান

পুরাতন খবর

এই বিষয়ের আরো খবর

© All rights reserved © 2017 ThemesBazar.Com

Desing & Developed BY লিমন কবির